খালেদা জিয়ার ‘পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ শুরু করেছেন লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকরা। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন গণমাধ্যমকে একথা জানান।
তিনি বলেন, “আজ বুধবার থেকে ম্যাডামের ‘পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা’ শুরু হয়েছে। আজকে, কালকে, পরশু, আগামী চার দিন উনার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা হবে, উনার ডাক্তাররা (লন্ডন ক্লিনিকের ডাক্তাররা) বাসায় উনাকে দেখতে আসবেন।”
‘কিছু পরীক্ষা করার জন্য হয়তো উনাকে লন্ডনে ক্লিনিকেও নিয়ে যাওয়া হবে। আগামী কয়েকটি দিন বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে, যা চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে করা হচ্ছে।’
কবে দেশে ফিরতে পারেন জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ডাক্তার সাহেবরা যেসব পরীক্ষা করতে বলেছেন সেগুলোর রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এখানকার ডাক্তাররা পরবর্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন…. কত দ্রুত উনি ছুটি দেয়ার মতো অবস্থায় যেতে পারবেন।’
বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডনের ডেভেরনশায়ার প্লেসে ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিক’র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধায়নে ছেলে তারেক রহমানের বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন।
গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো রাজকীয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। লন্ডন পৌঁছে হিথ্রো আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে তাকে সরাসরি অ্যাম্বুলেন্সে করে ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিকে’ ভর্তি করা হয়। ১৭ দিন সেখানে চিকিৎধীন থাকার পর তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় নেয়ার শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেন চিকিৎসকরা।
৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন থেকে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন।
এখন কেমন জানতে চাইলে অধ্যাপক জাহিদ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ম্যাডামের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। মানসিকভাবে উনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ভালো। মাচ বেটার।’
খালেদা জিয়াকে পার্কে ঘুরানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের বিষয়টি সঠিক কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) হুইল চেয়ারে করে জাস্ট উনাকে (খালেদা জিয়া) গাড়ি থেকে নামিয়ে ঘুরনো হয়েছিল। আবহাওয়াটা শীত কম ছিল সেজন্য কিছুক্ষণ ঘুরানো হয়েছিল।’
‘একটু মন ভালো লাগার জন্য, উনাকে স্থানীয় একটি পার্কে (সাউথ-ওয়েস্ট ইনার লন্ডনে) গাড়ি থেকে নামিয়ে ঘুরানো হয়েছিল এই আর কি। পার্কের নানা রঙের ফুল-টুল-বাগান, এগুলো দেখালে ম্যাডামের একটু ভালো লাগবে এই চিন্তা করে এটা করা হয়েছিল। ডাক্তাররা বলেছিলেন যে, উনাকে একটু হাঁটাতে পারলে ভালো হয়। উনাকে যদি পারো গাড়ির মধ্যে বসিয়ে ঘুরানোর চেষ্টা করতে পারো। এটাতে উনার মানসিক প্রশান্তি যেমন আসবে, শারীরিক সজীবতাও আসবে।’
জাহিদ হোসেন আরো বলেন, ‘এখানকার পার্কের ভেতরে তো গাড়ি চালানো যায়, গাড়ির আলাদা রাস্তা আছে, উনাকে গাড়িতে করে ঘুরাতে নিয়ে পার্কে কিছুক্ষণের জন্য নামানো হয়েছিল, গাড়ি থেকে হুইল চেয়ারে করে ফুলের বাগানের সাইট দিয়ে ঘুরানো হয়েছিল। বাসার বাইরে নিয়ে ঘুরানোর জন্যই এটা করা হয়েছিল আর কি।’
এবার লন্ডনে তারেক রহমানের বাসায় দুই ছেলের পরিবারের সদস্য নিয়ে একান্তে ঈদ উদযাপন করেন খালেদা জিয়া। লন্ডনে আছেন বড় ছেলে তারেক রহমান এবং ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের সদস্যরা।
খালেদা জিয়ার লন্ডনে এটি তৃতীয় ঈদ উদযাপন। এবার ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ঈদ পালন করছেন।
এর আগে ২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ছেলের বাসায় ঈদুল আজহা উদযাপন করেছিলেন। এরও আগে এক-এগারোর পরে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রায় আট বছর পর লন্ডনে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ উদযাপন করেছিলেন।
সূত্র: নয়া দিগন্ত
মন্তব্য করুন: