[email protected] সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫
১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

অমীমাংসিত বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে ভারত-বাংলাদেশকে সহযোগিতার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:১১ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ–সংক্রান্ত বিরোধ ২০১৪ সালে জাতিসংঘ ট্রাইব্যুনালের রায়ে নিষ্পত্তি হলেও, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এখনো কিছু “ধূসর এলাকা” রয়ে গেছে, যেখানে সমুদ্রতলের ওপর বাংলাদেশের কর্তৃত্ব থাকলেও জলস্তম্ভের ওপর ভারতের এখতিয়ার প্রযোজ্য। এই জটিলতা সামাল দিতে দুই দেশের আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সমুদ্র বিশেষজ্ঞরা।

২০০৯–২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করা সমুদ্র বিশেষজ্ঞ জোশুয়া আলেকজান্ডার জানান, বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নিলে সমন্বয়–সংকট তৈরি হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ভারতের এখতিয়ার বিবেচনা না করে ধূসর এলাকায় তেল প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ অনুমোদন দিতে পারে না। এখনো এই অঞ্চল ব্যবস্থাপনার জন্য দুই দেশের মধ্যে কোনো কাঠামো তৈরি হয়নি, যা তেল–গ্যাস অনুসন্ধানসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দেন, ভারত ও মিয়ানমার নিজেদের সমুদ্র এলাকায় বড় তেল–গ্যাস মজুদ আবিষ্কার করলেও বাংলাদেশ এখনো নিজের ২৬টি সমুদ্র ব্লক যথাযথভাবে অনুসন্ধান করতে পারেনি।

শেখ হাসিনার সময় চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও জলদস্যুতা দমনে অগ্রগতি হয়েছে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নজরদারি ও প্রতিক্রিয়ায় কাজ করেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বন্দর আধুনিকীকরণে গতি এনেছে, যেমন চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ “সমুদ্রের একমাত্র অভিভাবক” এবং ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার দিতে পারে—চট্টগ্রাম ও মাতারবাড়িকে সেই অঞ্চলের কার্যত সমুদ্র–দ্বার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর