ঢাকা ও আশপাশে দুই দিনের ব্যবধানে চার দফা ভূমিকম্পে গোটা দেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ২২ নভেম্বর শুক্রবার সকালে এবং পরদিন ২৩ নভেম্বর শনিবার দিনের বিভিন্ন সময়ে মোট চারটি কম্পন অনুভূত হয়। এর মধ্যে তিনটির উৎপত্তিস্থল নরসিংদী এবং একটি ছিল ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।
শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে আঘাত হানা ৫ মাত্রার বেশি শক্তির ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টা না যেতেই একই এলাকায় আবারও ৩.৩ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, দেশে প্রতিবছর ভূমিকম্পের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে—২০১৭ সালে ২৮টি, ২০২৩ সালে ৪১টি এবং ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৫৪টি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক ভূকম্পনগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে দেশের ভূত্বক অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয় করছে, যা ভবিষ্যতে বড় দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এখনই স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। তারা ঘরবাড়ি নিরাপদ করা, জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং পরিবারভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে বাড়তে থাকা ঝুঁকি বিবেচনায় সরকারও তৎপর হয়েছে। সোমবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মন্তব্য করুন: