[email protected] বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
২৪ পৌষ ১৪৩২

ঘনিষ্ঠজনের বিশ্বাসঘাতকতায় যেভাবে ধরা পড়লেন মাদুরো

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০১ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ঘরের শত্রুই যে সবচেয়ে ভয়ংকর, এই প্রবাদ যেন আরও একবার বাস্তবে প্রমাণ হলো ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-এর ঘটনায়। যাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করেছিলেন, সেই ঘরের মানুষের দেওয়া তথ্যের ওপর ভর করেই তাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন বাহিনী।

ইতিহাস বলছে, এই ঘটনা নতুন নয়। ক্ষমতার শীর্ষে থাকা অনেকেই কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় পতনের মুখ দেখেছেন। বাংলার ইতিহাসেও এর সবচেয়ে কুখ্যাত উদাহরণ মীরজাফর। যার বিশ্বাসঘাতকতা ও ষড়যন্ত্রে ক্ষমতা হারান নবাব সিরাজউদ্দৌলা। মীরজাফরও ছিলেন নবাবের অতি ঘনিষ্ঠ একজন।

ভেনেজুয়েলার ঘটনাতেও তেমনই এক ‘আধুনিক মীরজাফর’-এর কথা উঠে এসেছে। জানা গেছে, মাদুরোর খুব কাছের একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার সব গতিবিধি, জীবনযাপন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত গোপন তথ্য মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে পাচার করছিলেন। এই তথ্যের সূত্র ধরেই মাদুরোর দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পায় যুক্তরাষ্ট্র।

এই গোপন তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই চালানো হয় কারাকাসে সামরিক অভিযান। অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যায় মার্কিন সেনাবাহিনী। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ বলে পরিচিত এলাকাগুলোর একটিতে এই অভিযান চালানো হয়।

অভিযানটি ছিল অত্যন্ত দ্রুত, নিখুঁত এবং পরিকল্পিত। এতে সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে সেই গোপন বিশ্বাসঘাতক। যিনি মাদুরোর একেবারে ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং নিয়মিত তার অবস্থান ও তথ্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠাতেন। অভিযানের সময়ও মাদুরোর সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করতে সাহায্য করেন তিনি।

মার্কিন বাহিনীর এই পরিকল্পনার নাম ছিল ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’। জানা গেছে, এই অভিযান বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছিল অনেক মাস ধরে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং তদন্ত সংস্থা একযোগে এই মিশনে কাজ করে। একাধিক দফা মহড়া ও অনুশীলনের পরই শুরু হয় মূল অভিযান।

ডেলটা ফোর্স মাদুরোর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুশীলন চালায়। তার বাসভবনের একটি নকল সংস্করণ তৈরি করে সেখানে অভ্যন্তরীণ মহড়া হয়। কোন পথে ঢুকতে হবে, কোথায় নিরাপত্তার দুর্বলতা—সবকিছু ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করা হয়। এই নিখুঁত বিবরণও সরবরাহ করেন সেই ঘরের বিশ্বাসঘাতক।

জানা গেছে, গত বছর আগস্ট থেকেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একটি ছোট দল ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় ছিল। তারা মাদুরোর সময়সূচি, চলাফেরা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য গোপন তথ্য সংগ্রহ করে পাঠাতে থাকে। এসব তথ্যই অভিযানের সাফল্যের পথ তৈরি করে।

সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর অভিযানের অনুমোদন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তার নির্দেশে শুক্রবার গভীর রাতে শুরু হয় হামলা। ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। কারাকাস ও আশপাশের একাধিক সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।

বিমান হামলার আড়ালে ভারী অস্ত্রসহ বিশেষ বাহিনী প্রবেশ করে মাদুরোর নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে। রাত প্রায় একটার দিকে তারা সেখানে পৌঁছায়। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। একটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অভিযান থামেনি।

সব কক্ষ তল্লাশি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত মাদুরো ও তার স্ত্রীকে খুঁজে বের করা হয়। পরিস্থিতির চাপে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন তারা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরো একটি সুরক্ষিত কক্ষে ঢুকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে দরজা বন্ধ করতে পারেননি।

অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। মিশনটি নিরাপদ ও সফলভাবে শেষ হয়।

এই অভিযানের খবর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আলোচনায় আসে সেই বিশ্বাসঘাতকের নাম। অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করে বলছেন, যখন ঘরের লোকই শত্রু হয়ে ওঠে, তখন বাইরের শত্রুর আর প্রয়োজন পড়ে না।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর