চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানের চালবাহী জাহাজ ভেড়ানোর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য–রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে বাংলাদেশ। করাচি থেকে আসা ১ লাখ টন লম্বা দানার চাল শুধু খাদ্য আমদানিই নয়, বরং ভারতের দীর্ঘদিনের একচ্ছত্র প্রভাবের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্তের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি কৌশলগত স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়েছে। ভারতের বারবার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক বাড়ানো এবং নিম্নমানের চাল পাঠানোর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে প্রথমবার পাকিস্তানকে বিকল্প সরবরাহকারী হিসেবে বেছে নেয় ঢাকা। পাকিস্তানি চাল ভারতীয় বাজারদরের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ কম, অথচ মান উচ্চ ফলে বাংলাদেশের বাজারে দাম স্থিতিশীল হয়েছে।
পাকিস্তানের রাইস এক্সপোর্টস অ্যাসোসিয়েশন এই চুক্তিকে “রাজনৈতিক পুনর্জাগরণ” বলে উল্লেখ করেছে। ইসলামাবাদ আরও প্রস্তাব দিয়েছে, বাংলাদেশ চাইলে করাচি বন্দর হয়ে মধ্য এশিয়ার বাজারে পৌঁছাতে পারবে, যেখানে ভারতীয় ট্রানজিটের প্রয়োজন হবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ তিনটি বার্তা দেয়: ভারতের চাপের রাজনীতি শেষ, পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য অধ্যায় শুরু, আর দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য–কৌশলে বাংলাদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে উঠে আসছে।
মন্তব্য করুন: