ajbarta24@gmail.com বৃহঃস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১

ইউনূস সরকার আওয়ামীলীগকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে : আওয়ামীলীগ

ন্যাশনাল ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:১১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের অজুহাতে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, কোনও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ড. ইউনূসের সরকার আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের অজুহাতে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, কোনও বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ড. ইউনূসের সরকার আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যা দেশের প্রাচীনতম দলটিকে সংস্কারের অজুহাতে ধ্বংস করতে এবং জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় চলমান বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করার তার ইচ্ছার প্রতিফলন।

৩১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আপ করা এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে।

ড. ইউনূসের একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ টেনে বিবৃতি বলা হয়, আমরা ড. ইউনূসের একটি বক্তব্য পেয়েছি, যিনি অনির্বাচিত শাসনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং আওয়ামী লীগকে একটি ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

এতে বলা হয়, এই বিবৃতি তখনই এসেছে যখন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শত শত নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন, যার মধ্যে লিঞ্চিং, হত্যা এবং শারীরিক নির্যাতনের মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ড. ইউনূস দেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চলছে।

এতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বাসস্থান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে প্রাণনাশী হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের হাজারও ঘটনা ঘটেছে। এমনকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অভিযোগ করে সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, মুক্তচিন্তাবিদ ও লেখকদেরও নির্যাতন করা হয়েছে এবং এই ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের অধিকার পদদলিত হয়েছে।

গত দুই মাস ধরে ড. ইউনূস ৮ আগস্টের পর সংঘটিত এই ভয়াবহ নির্যাতনগুলো অস্বীকার করেছেন দাবি করে বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি যে এই ইচ্ছাকৃত অস্বীকৃতি ড. ইউনূসের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার দাবির বিপরীতে স্পষ্ট দ্বিমুখিতার বহিঃপ্রকাশ। এই গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনগুলো স্বীকার না করে এবং অগণিত ভুক্তভোগীর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে আওয়ামী লীগকে দানব হিসেবে উপস্থাপন করার ড. ইউনূসের প্রচেষ্টা আসলে সহিংসতার এক দুষ্ট চক্রকে উসকে দেওয়ার, হামলাকারীদের আড়াল করার এবং তার শাসনামলে সংঘটিত সব নির্যাতনে তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ না করার একটি নির্লজ্জ প্রচেষ্টা।

এতে অভিযোগ করা হয়, ব্যাপক শুদ্ধি অভিযানের পর ড. ইউনূসের চোখের সামনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাবলম্বীদের দমন করতে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের হতে দায়মুক্তি, ইচ্ছেমতো গ্রেফতার এবং সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে নাগরিকদের অবৈধভাবে বন্দি করা —এসব ঘটনা অধিকার সংগঠন ও সাংবাদিকদের নিন্দার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে। তবু, ড. ইউনূস জুলাই-আগস্টের সহিংসতায় বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এই গুরুতর অধিকার লঙ্ঘন থামাতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা নিহত ও আহত ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির বিপরীতে তার দ্বিচারিতার আরেকটি উদাহরণ।

বিবৃতিতে বলা হয়, ড. ইউনূস বারবার ৪ আগস্ট থেকে সংঘটিত হাজার হাজার সাম্প্রদায়িক হামলা, যার মধ্যে হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা রয়েছে, সেগুলোর ব্যাপকতাকে তুচ্ছ করে দেখছেন, যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করছেন ড. ইউনূস, কিন্তু অপরাধীদের বিরুদ্ধে তার আইনি পদক্ষেপের অভাবটি উদ্বেগজনক ও বিপজ্জনক। আমরা বিশ্বাস করি, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকে আওয়ামী লীগের সমর্থক বলে চিহ্নিত করার ড. ইউনূসের এই পরিকল্পিত প্রচেষ্টা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে, হামলাকারীদের সাহস জোগায় এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার এক ফ্যাসিবাদী শাসনের চিহ্ন বহন করে।

বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন শাসন তার সমর্থকদের জন্য ৮ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত সহিংসতায় দায়মুক্তি দিয়েছি উল্লেখ করে বিবৃতি বলা হয়, চলমান বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যেই এই আদেশটি যেকোনও নিরপেক্ষ তদন্ত বন্ধ করতে চায় এবং বিচার বিভাগে ব্যাপক শুদ্ধি অভিযানের মাধ্যমে সব সহিংসতাকে আওয়ামী লীগের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের জন্য একটি প্রহসন মাত্র।

বিবৃতিতে রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে জুলাই-আগস্টের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত সবার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। বলা হয়, ড. ইউনূসের আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে হতাশাব্যঞ্জক প্রচেষ্টা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মতামত গঠনের জন্য এক চেষ্টার অংশ, যা শুধু তার প্রহসনমূলক বিচার প্রক্রিয়া আয়োজনের হতাশা প্রকাশ করে না, বরং বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠতে তার অক্ষমতা এবং আত্মস্বার্থে পরিচালিত প্রতিশোধমূলক দৃষ্টিভঙ্গিও প্রকাশ করে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর