ইসরাইলে ইরানের হামলার আশঙ্কার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বোমারু বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে একাধিক বি-৫২ বোমারু বিমান মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। স্থানীয় শনিবার (২ নভেম্বর) ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।
গাজা ও লেবানন যুদ্ধের জেরে এখন ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দফায় দফায় সংঘাতে জড়িয়েছে দেশ দুটি।
গত ২৬ অক্টোবর ভোর রাতে ইরানের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি বিমান বাহিনী। এরপর থেকেই তেহরান পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার পর ইসরাইলের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলা না চালাতে ইরানকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও ইরানকে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানায়।
তবে সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরাইলে হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
টাইমস অব ইসরাইল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে হামলা চালাবে না ইরান। তবে অন্য কিছু গণমাধ্যম সূত্রের বরাত দিয়ে বলছে, মার্কিন নির্বাচনের আগেই ইসরাইলে হামলা চালাতে পারে ইরান।
এর প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (১ নভেম্বর) ইসরাইলের সুরক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যে আরও সামরিক রসদ পাঠানোর হুঁশিয়ারি দেয় ওয়াশিংটন। জো বাইডেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বোমারু বিমান, যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্কার ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো হবে। আগামী দিনগুলোতে এভাবে যুদ্ধযান পাঠানো অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় তারা।
এরপর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত শনিবার বলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৃশংসতার কঠোর জবাব পাবে। এটি শুধু প্রতিশোধের বিষয় নয় বরং যুক্তিসংগত পদক্ষেপ, যা ধর্ম, নীতি, শরীয়া ও আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সম্পর্কিত।
খামেনির হুঁশিয়ারির পরই মধ্যপ্রাচ্যে বি-৫২ বোমারু বিমান পাঠানো হয়। ইউনাইডেট স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এক এক্স বার্তায় বলা হয়, ‘মাইনট এয়ার ফোর্স বেসের পঞ্চম বোমা উইং থেকে বি-৫২ বোমারু বিমান পাঠানো হয়েছে।’
এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে পেন্টাগনের মুখপাত্র মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার বলেন, ‘ইরান, তাদের সহযোগী কেউ কিংবা ছদ্মবেশী কেউ যদি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কোনো ব্যক্তিকে টার্গেট করে তাহলে তাদের রক্ষা করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র।’
মন্তব্য করুন: