প্রকাশিত:
০২ অক্টোবর ২০২৪ ১৬:১০ পিএম
আপডেট: ০২ অক্টোবর ২০২৪ ৪:১৪ পিএম
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনও রিপাবলিকানদের সমর্থন হারাননি, তবে তিনি সতর্কবার্তা পেয়েছেন। গত সপ্তাহান্তে পেনসিলভানিয়ার স্ক্রানটন শহরে একটি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন এবং রিপাবলিকান সিনেটর জেডি ভ্যান্সকে ‘অত্যন্ত বিপ্লবী’ বলে মন্তব্য করার পর, কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জেলেনস্কির এই পদক্ষেপকে কৌশলগত ভুল হিসেবে দেখছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এখনও রিপাবলিকানদের সমর্থন হারাননি, তবে তিনি সতর্কবার্তা পেয়েছেন। গত সপ্তাহান্তে পেনসিলভানিয়ার স্ক্রানটন শহরে একটি অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন এবং রিপাবলিকান সিনেটর জেডি ভ্যান্সকে ‘অত্যন্ত বিপ্লবী’ বলে মন্তব্য করার পর, কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা জেলেনস্কির এই পদক্ষেপকে কৌশলগত ভুল হিসেবে দেখছেন। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তার এ ধরনের মন্তব্য বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন জেলেনস্কির এই কারখানা পরিদর্শনকে একটি ডেমোক্র্যাটিক প্রচারণামূলক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে সমালোচনা করেছেন। একইসঙ্গে ভ্যান্সকে আক্রমণ করে জেলেনস্কি পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন। এই জটিলতা এমন সময় সৃষ্টি করলেন তিনি যখন রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করতে এসেছেন। রিপাবলিকানদের সমর্থন এই মুহূর্তে জেলেনস্কির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধে দ্রুত সমাধানের কোনও লক্ষণ নেই।
সিনেটর জন করনিন (টেক্সাস) জেলেনস্কির এই পদক্ষেপকে একটি ভুল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, কোনও বিদেশি নেতার আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জড়ানো উচিত নয়। ইউক্রেনের আরও অনেক বন্ধুর প্রয়োজন, তাই এটা একটি অপ্রয়োজনীয় ভুল ছিল।
তিনি আরও বলেছেন, এই একটি ঘটনার কারণে ইউক্রেনের সমর্থন পরিবর্তন হবে না। ইউক্রেনের সমর্থকরা দেশটির ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে সমর্থন অব্যাহত রাখবেন।
হাউজ অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন চেয়ার টম কোল (ওকলাহোমা) জেলেনস্কির কারখানা পরিদর্শনকে ‘সহায়ক নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও তিনি বলেছেন যে, আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় এই বিষয়ে আলোচনা খুব একটা হয়নি। কোল সতর্ক করে বলেন, যে কোনও বিদেশি নেতা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জড়ালে তা ক্ষতিকর হতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্ররা ইতোমধ্যে জেলেনস্কির এই পদক্ষেপের কারণে তদন্তের দাবি তুলেছেন এবং ট্রাম্পের সমর্থক আইনপ্রণেতারা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। হাউজ রিপাবলিকানরা দাবি করেছেন যে, জেলেনস্কিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে বরখাস্ত করতে হবে। যদিও ইউক্রেনের জন্য সমর্থনকারী রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ এখনও ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
ট্রাম্প বুধবার পেনসিলভানিয়ায় একটি সমাবেশে জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেছেন, আমরা জেলেনস্কিকে কয়েক বিলিয়ন ডলার দিচ্ছি, কিন্তু তিনি কোনও চুক্তি করতে রাজি নন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণ করার সাহস পেত না।
তবে ইউক্রেনের রিপাবলিকান সমর্থকরা জেলেনস্কির সাম্প্রতিক মন্তব্যের পরও তাকে একটি সুযোগ দিতে রাজি আছেন। সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ট্রাম্পকে আঘাত করলে, তিনি পাল্টা আঘাত করবেন। আমাদের এখন দরকার কৌশলগত পরিবর্তন। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বাইডেন কী করেন তার ওপর, ট্রাম্প কী করতে পারেন তার ওপর নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রিপাবলিকানই ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে জেডি ভ্যান্স অন্যতম, যিনি ইউক্রেনের যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জ্যঁ-পিয়েরে বলেছেন যে, রিপাবলিকানদের সমালোচনা একটি অজুহাত মাত্র, যা ইউক্রেনকে সমর্থন না করার আগের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
কংগ্রেসের উভয় দল থেকেই জেলেনস্কির প্রতি কিছুটা সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়েছে। সিনেট ফরেন রিলেশনস চেয়ার বেন কার্ডিন বলেছেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়। তাই তাকে খুব বেশি সমালোচনা করা উচিত নয়। তিনি ইউক্রেনের পক্ষে কথা বলছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জড়িত হতে চান না।
শেষ পর্যন্ত, জেলেনস্কি তার সামরিক চাহিদা পূরণে বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকে সহায়তা চাইছেন। বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে। সিনেটর জন হোয়েভেন বলেন, তিনি আমাদের রাজনীতির বাইরে থাকতে চান। আসল চাবিকাঠি হলো তিনি উভয় দলের সিনেটরদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং আলোচনা করেছেন ইউক্রেনের যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা যেতে পারে।
মন্তব্য করুন: