ইসরায়েলি কারাগারে দীর্ঘ ২১ বছর বন্দী ছিলেন নাঈল সালাম ওবাইদ। সম্প্রতি হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের জিম্মি-বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় মুক্তি পান তিনি। কিন্তু নিজের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই নাঈল সালামা ওবাইদের জীবন হঠাৎ করুণ পরিণতি বরণ করে। গত শনিবার পূর্ব জেরুজালেমের ইসাওয়িয়ায় নিজ বাসার ছাদ থেকে পড়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে
ইসরায়েলি কারাগারে দীর্ঘ ২১ বছর বন্দী ছিলেন নাঈল সালাম ওবাইদ। সম্প্রতি হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের জিম্মি-বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় মুক্তি পান তিনি। কিন্তু নিজের স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই নাঈল সালামা ওবাইদের জীবন হঠাৎ করুণ পরিণতি বরণ করে। গত শনিবার পূর্ব জেরুজালেমের ইসাওয়িয়ায় নিজ বাসার ছাদ থেকে পড়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৬ বছর বয়সী ওবাইদ ইসরায়েলের কারাগারে ২১ বছর কাটিয়েছেন। হামাসের সামরিক শাখা আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় জড়িত থাকার দায়ে তাঁকে সাতটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি আরও ৩০ বছরের কারাদণ্ডও দেওয়া হয় তাঁকে।
দীর্ঘ ২১ বছর তথাকথিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতেই ইসরায়েলের কারাগারে বন্দী জীবন কাটাচ্ছিলেন তিনি। তিনি সম্প্রতি মুক্তি গাজা যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হওয়া বন্দী-জিম্মি বিনিময় চুক্তির আওতায় ষষ্ঠ দফায় মুক্তি পেয়েছিলেন। তাঁর মুক্তি আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি করলেও মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ছাদ থেকে পড়ে ওবাইদ গুরুতর আহত হন এবং সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে স্থানীয় হাদাসা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু পরিবার ও স্বজনদের গভীর শোকে ডুবিয়ে দিয়েছে, স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া মাত্রই হৃদয়বিদারক পরিণতি ঘটে গেছে।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ওবাইদ কঠোর কারাগার জীবন, নির্জন কারাবাস এবং নানা সময় অনশন-ধর্মঘটের মতো কঠোর প্রতিবাদ চালিয়ে গেছেন। দীর্ঘদিনের বন্দিদশা কাটিয়ে বাড়ি ফেরার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলেও, সেটি নিষ্ঠুরভাবে শেষ হয়ে গেল।
পরিবারের শোকে আরও মাত্রা যোগ করেছে এই ঘটনা যে, ওবাইদের মৃত্যুর দিনই তার চাচাতো ভাই আহমাদ ওবাইদের মুক্তির কথা ছিল, যিনি বন্দী বিনিময়ের আরেকটি ধাপে মুক্তি পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু তাঁকে ইসরায়েল মুক্তি দেয়নি এখনো।
সোর্স: আজকের পত্রিকা
মন্তব্য করুন: