ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা, জেন্টলম্যানস গেম। কিন্তু সেই পরিচয়কে আরও একবার প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিল সাম্প্রতিক ভারত–বাংলাদেশ উত্তেজনা। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের তারকা পেসার Mustafizur Rahman-কে ঘিরে উগ্রবাদী সংগঠনগুলোর হুমকিতে ঘোলাটে হয়ে উঠেছে পুরো পরিস্থিতি।
মুস্তাফিজকে নিয়ে প্রকাশ্য হুমকির ঘটনায় বড় প্রশ্ন উঠেছে খেলাধুলার নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে। এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপর। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে গোটা দল।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। জরুরি বৈঠকের পর এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় Bangladesh Cricket Board। বিকল্প ভেনুতে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানিয়ে ইতোমধ্যেই International Cricket Council-এর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট Cricbuzz জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে আইসিসির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি। তবে রবিবার পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো বৈঠকও হয়নি।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা ৭ ফেব্রুয়ারি। উদ্বোধনী দিনেই কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের। এরপর গ্রুপ পর্বে ইতালি, ইংল্যান্ড ও নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ—যার ভেনু ছিল কলকাতা ও মুম্বাই। কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও উগ্রবাদী হুমকির কারণে এসব ভেনুতে খেলতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়েছে বিসিবি।
জরুরি বৈঠকের পর দেওয়া এক বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, ভারত সফরে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ গভীরভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় দল ভারতে যাবে না। একই সঙ্গে বিকল্প ভেনুতে ম্যাচ সরানোর বিষয়টি আইসিসিকে জানানো হয়েছে।
এই সংকটের সূত্রপাত মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে Kolkata Knight Riders মুস্তাফিজকে দলে রাখেনি। এ সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি Board of Control for Cricket in India।
তবে ধারণা করা হচ্ছে, ভারতের উগ্রবাদী কিছু সংগঠনের চাপের কাছেই নতি স্বীকার করা হয়েছে। কারণ গত ডিসেম্বরে নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার পর থেকেই প্রতিবাদ ও হুমকি চলছিল। তাদের অভিযোগ ছিল বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন, আর সেই অজুহাতে আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার খেলতে দেওয়া যাবে না।
এমনকি হুমকির মুখে পড়েছিলেন নাইট রাইডার্সের মালিক শাহরুখ খানও। স্টেডিয়াম ভাঙচুরের হুমকিও আসে একাধিকবার।
এই বাস্তবতায় বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে, যদি একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার মুস্তাফিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয় ভারত, তাহলে কীভাবে নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের পুরো বিশ্বকাপ বহরের নিরাপত্তা? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন আইসিসির দ্বারস্থ হয়েছে বিসিবি।
এই সংকট শুধু একটি ক্রিকেট ম্যাচের ভেনু পরিবর্তনের বিষয় নয়। এটি খেলাধুলার নিরপেক্ষতা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং ক্রিকেটের আত্মার জন্য এক বড় পরীক্ষার নাম।
মন্তব্য করুন: