ajbarta24@gmail.com শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১

দুহাতে চাঁদাবাজি করতেন আওয়ামী নেতারা!

ন্যাশনাল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ নভেম্বর ২০২৪ ২১:১১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুথানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচুত্য হলে, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই থেকে একে একে ফাঁস হচ্ছে আওয়ামী দোসরদের সব অপকর্মের তথ্য। এবার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টেন্ডার-চাঁদাবাজি ও দখলদারিসহ আরও নানা অভিযোগ উঠেছে ঢাকার বেশ কয়েকজন সাবেক এমপিদের বিরুদ্ধে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজধানীর এসব এমপিরা এলাকাভিত্তিক মাফিয়া উঠেছিলেন।

আওয়ামী লীগের অন্যতম দাপুটে নেতা ও বর্তমানে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন জাহাঙ্গির কবির নানক। তবে নানক ঢাকাজুড়ে ও বিশেষ করে মোহাম্মদ পুর এলাকায় বেশি পরিচিত ছিলেন মাফিয়া হিসেবে। ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে, বিভিন্ন সময় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রনালয়ের দ্বায়িত্বে ছিলেন তিনি। তবে তার সবচেয়ে জনপ্রিয় কর্মকান্ড ছিলো পার্সেন্টিজ ব্যবসা। সরকারি হোক আর বেসরকারি, নানককে পার্সেন্টিজ না দিয়ে সম্পূর্ণ হতো না কোন কিছুই। এদিকে পালিত সন্তান রাজিবই ছিলেন নানকের অবৈধ এই সম্রাজ্যের অন্যতম মূলহোতা। নানকের আশীর্বাদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ক্যাসিনো ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মানুষের বাড়িঘর, জমি দখল ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় ত্রাস কায়েম করেন রাজিব।

এরপর রাজধানীর অন্যতম ত্রাস ছিলেন, ঢাকা ১২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তেজগাঁওয়ের শিল্পাঞ্চল এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদা নেয়ার জন্য বেশ জনপ্রিয় ছিলেন এই নেতা। তার অবৈধ সম্পদের অন্যতম উৎস ছিলো তেজগাঁয়ের ট্রাকস্ট্যান্ড। যেখানে মাসিক ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা চাঁদা, আসাদুজ্জামান নুরের নামে তোলা হতো। এছাড়া কারওয়ান বাজারের আরত থেকেও বস্তায় বস্তায় টাকা প্রতিদিন আসাদুজ্জামানের বাড়িতে যেত। মন্ত্রীপদের অপব্যবহার করে তিনি নিয়োগ বাণিজ্য করেও তৈরি করেছেন হাজার কোটি টাকার সম্পদ।

বাম রাজনীতি ছেড়ে নৌকায় ডেরা জমানো রাশেদ খান মেননও পিছিয়ে ছিলেন না, আওয়ামী লীগের ছাঁয়ায় নিজের প্রভাব বিস্তারে। এক সময়ের জনপ্রিয় নেতা মেনন, বাম রাজনীতি ছেড়ে আওয়ামী লীগের নৌকায় পা রাখলে, তাকেও ভর করে দুর্নীতি। মন্ত্রীপদের অপব্যবহার ছাড়াও, তিনি সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছেন স্কুল কলেজে। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি থাকাকালিন. কোটি কোটি টাকা ঘুষ নিয়ে, অবৈধভাবে ১২৮ জনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন শিক্ষকসহ আরও অন্নান্য পদে।

এদিকে সন্ত্রাসী, দখলদারি ও দুর্নীতির প্রতিযোগিতায়, আওয়ামী লীগের অন্যসব নেতাকে একাই পেছনে ফেলেন, লালবাগের মাফিয়া ও এক সময়ের সংসদ সদস্য হাজী সেলিম। এক সময়ে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করতে চাওয়া এই নেতা, আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে হয়ে ওঠেন দখল বাণিজ্যের অন্যতম কান্ডারি। দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে, বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে হাজী সেলিম গড়ে তুলেন নিজের সাম্রাজ্য। যার সবচেয়ে অন্যতম হচ্ছে পুরান ঢাকায় জগন্নাথ কলেজের ছাত্রাবাস দখল করে, সেখানে গুলশান আরা প্লাজা নামে তৈরি করেন বিশাল ব্যবসায়িক ভবন। এছাড়া সরাকারী জমির পাশাপশি সাধারণ মানুষের জমিও দখল করার হাজারো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ঢাকা ১৬ আসনের ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর কথাই ছিল আইন। সরকারি পতিত জমি থেকে, সাংবাদিকদের আবাসন প্রক্লপ, সব জায়গায়ই হাত দিয়েছেন এই নেতা। তিনি যেভাবে যা বলতেন, তাই হতো। অন্যদিকে পরের সম্পত্তি দখল করে নিজের নামে সাইনবোর্ড লাগাতেন ঢাকা ১৩ আসনের এমপি সাদেক খান। ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে নিজ সংসদীয় এলাকায় চালাতেন অমানবিক নির্যাতন। আর ঢাকা ১৫ আসনের এমপি কামাল আহমেদ মজুমদারের নেশাই যেন ছিলো মানুষকে হয়রানি করা। যেখানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শিল্প প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে, তিনি যেন পেয়ে বসেন আলাদিনের চেরাগ। একক ভাবে হয়রানি করতে শুরু করে এলাকার মানুষকে, লোভের নেশায় তাঁর নিজের সার্কেলের অনেক মানুষকেও তিনি করেছেন নিঃস্ব।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর