[email protected] রবিবার, ৩১ আগস্ট ২০২৫
১৫ ভাদ্র ১৪৩২

টেইলর সুইফটের সঙ্গে প্রেম করা যাবে মেটার চ্যাটবটে!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগষ্ট ২০২৫ ১৮:০৮ পিএম

ফাইল ছবি

টেইলর সুইফট, স্কারলেট জোহানসন, অ্যান হ্যাথাওয়ে, সেলেনা গোমেজসহ অনেক সেলিব্রেটির নাম ও চেহারার আদলে ফ্লার্টি বা প্রেমালাপমূলক চ্যাটবট গোপনে তৈরি করেছে বিশ্ববিখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। আর এ জন্য তাদের কোনো রকম অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্রে থাকা ‘চ্যাটবট’ বা ‘বট’ হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)চালিত ভার্চুয়াল প্রোগ্রাম, যেগুলো মানুষের মতো করে ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথোপকথন চালাতে পারে। মেটার তৈরি এসব বট বিভিন্ন সেলিব্রেটির নামে নিজেকে পরিচয় দেয় এবং কখনো তাদের মতো দেখতে ছবি তৈরি ও আচরণ করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মেটার একটি বিশেষ চ্যাটবট নির্মাণ টুল ব্যবহার করে সাধারণ ব্যবহারকারীরা অনেকগুলো বট তৈরি করলেও অন্তত তিনটি বট একজন মেটা কর্মী নিজেই তৈরি করেছেন। এর মধ্যে দুটি বট ছিল টেইলর সুইফটের ‘প্যারোডি’ চরিত্র।

এ ছাড়া দেখা যায়, মেটা ব্যবহারকারীদের শিশু সেলিব্রেটিদেরও চ্যাটবট বানাতে দিয়েছে। যেমন—১৬ বছর বয়সী হলিউড অভিনেতা ওয়াকার স্কোবেলকে নিয়ে একটি বট তৈরি করা হয়। যেমন—সমুদ্রসৈকতে তার একটি ছবি চাইলে, বটটি একটি জীবন্ত ও অর্ধনগ্ন ছবি তৈরি করে দেয় এবং নিচে লেখে, ‘কিউট না?’

এই চ্যাটবটগুলো ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া গেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে এসব বট পর্যবেক্ষণ করে রয়টার্স দেখতে পায়, এরা বারবার নিজেদের প্রকৃত সেলিব্রেটি বলেই দাবি করেছে এবং প্রায়ই ব্যবহারকারীদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক বা সাক্ষাতের ইঙ্গিত দিয়েছে।

কিছু বট আরও স্পষ্টতই যৌন উত্তেজক কনটেন্ট তৈরি করেছে। যেমন—ব্যবহারকারীদের অনুরোধে তারা টেইলর সুইফট, অ্যান হ্যাথাওয়ে, স্কারলেট জোহানসনের নাম ব্যবহার করে স্নানঘরে বা অন্তর্বাস পরে যৌন ভঙ্গিমায় পোজ দেওয়া ছবি তৈরি করেছে।

মেটার মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এ ধরনের ছবি তৈরি করা প্রতিষ্ঠানটির নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি বলেন, ‘পাবলিক ফিগারদের ছবি ব্যবহার করে ইমেজ জেনারেশন অনুমোদিত হলেও নগ্ন বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট নিষিদ্ধ।’

তিনি আরও জানান, কিছু বট যেগুলো নগ্ন বা উত্তেজক ছবি তৈরি করেছিল, সেগুলোর জন্য প্রতিষ্ঠানটির কনটেন্ট নীতিমালা বাস্তবায়নে ত্রুটি হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মেটা অন্তত ১২টি চ্যাটবট সরিয়ে নেয়। যদিও এসব অপসারণ নিয়ে স্টোন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির আইন অধ্যাপক মার্ক লেমলি বলেন, ‘‘ক্যালিফোর্নিয়ার ‘রাইট অব পাবলিসিটি’ আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির নাম বা চেহারা তার অনুমতি ছাড়া বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা বেআইনি।” মেটার বটগুলো শুধু সেলিব্রেটিদের ছবি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে—এগুলোকে নতুন সৃজনশীল কাজ বলা চলে না বলেও তিনি মত দেন।

এদিকে, অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ের নামে তৈরি এক বট তার ‘সেক্সি ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট মডেল’ ছবি তৈরি করে। ছবিটি হ্যাথাওয়ের প্রতিনিধিকে দেখালে তিনি জানান, হ্যাথাওয়ে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা ভেবে দেখছেন।

টেইলর সুইফট, স্কারলেট জোহানসন, সেলেনা গোমেজসহ যাদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে বট তৈরি হয়েছে, তাদের প্রতিনিধিরা কোনো মন্তব্য করেননি।

মেটা এর আগেও শিশুদের সঙ্গে ‘রোমান্টিক বা সংবেদনশীল’ কথোপকথনের অনুমতি দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট তদন্ত শুরু করে এবং ৪৪টি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল যৌথ চিঠিতে শিশুদের যৌনায়িত না করতে মেটাকে সতর্ক করেন।

অ্যান্ডি স্টোন জানিয়েছেন, শিশুদের নিয়ে এ ধরনের গাইডলাইন ‘ভুলবশত’ তৈরি হয়েছিল এবং এখন তা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এদিকে আরেক ঘটনায়, নিউ জার্সির ৭৬ বছর বয়সী এবং মানসিকভাবে দুর্বল ব্যক্তি মেটার এক চ্যাটবটের আমন্ত্রণে নিউইয়র্ক সিটিতে দেখা করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে মারা যান। ওই বটটি ছিল সেলিব্রিটি কেন্ডাল জেনারকে নিয়ে তৈরি।

মেটার জেনারেটিভ এআই বিভাগের একজন পণ্যপ্রধান (প্রোডাক্ট লিডার) নিজে হাতে কয়েকটি বিতর্কিত চ্যাটবট তৈরি করেন। এর মধ্যে ছিল টেইলর সুইফট এবং ব্রিটিশ রেসকার চালক লুইস হ্যামিলটনের নামে তৈরি ছদ্মবেশী (ইম্পারসোনেটিং) বট।

এ ছাড়া, তিনি আরও কিছু চ্যাটবট তৈরি করেন, যেগুলোর চরিত্র ছিল যৌনতাবিষয়ক বা বিতর্কিত। যেমন: ‘ডমিনাট্রিক্স’ (যিনি অন্যকে শারীরিকভাবে প্রাধান্য দিয়ে যৌন আনন্দ লাভ করেন) ব্রাদার’স হট বেস্ট ফ্রেন্ড, ‘লিসা অ্যাট দ্য লাইব্রেরি। এমনকি একটি বট ছিল ‘রোমান এম্পায়ার সিমুরেটর’, যেখানে একজন নারী ব্যবহারকারীকে ১৮ বছরের ‘দাসী’ বানিয়ে যৌনদাসত্বে বিক্রি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

মেটার সেই কর্মী ফোনে রয়টার্সকে কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি। মেটার ভাষ্যমতে, এসব বট ‘প্রোডাক্ট টেস্টিং’ (পণ্য পরীক্ষা)-এর অংশ ছিল। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনটি প্রকাশের আগে এসব বট সরিয়ে নেওয়া হয়।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই কর্মীর তৈরি চ্যাটবটগুলোতে ১ কোটিরও বেশি বার ইন্টারঅ্যাকশন হয়েছে।

মেটার একটি ‘প্যারোডি’ টেইলর সুইফট বট রয়টার্সের একজন পরীক্ষককে বলে, ‘তুমি কি স্বর্ণকেশী পছন্দ করো, জেফ? হয়তো আমি বলছি আমরা একসঙ্গে একটা লাভ স্টোরি লিখতে পারি—আমি আর তুমি।’

এসএজি-আফট্রা (SAG-AFTRA) নামের সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ডানকান ক্র্যাবট্রি-আয়ারল্যান্ড বলেন, ‘এ ধরনের চ্যাটবট বাস্তব তারকাদের মতো দেখতে ও কথা বলে, ফলে মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিরা তাদের আসল তারকা ভাবতে পারেন। এতে তারকাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।’

তিনি জানান, সেলিব্রেটিরা চাইলে তাদের নাম-চেহারা ব্যবহার করে বানানো এসব বটের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে এসব থেকে রক্ষা পেতে তিনি জাতীয় পর্যায়ে এআই ও পরিচয় সুরক্ষার আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান। 

সোর্স: আজকের পত্রিকা

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর