গত সপ্তাহে ভারত তার জনপ্রিয় বাহন মোটরসাইকেলের ওপর থেকে আবার আমদানি শুল্ক কমিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে আমেরিকার কোম্পানির তৈরি বাইক হার্লে ডেভিডসনের রপ্তানি আরও সহজ হয়েছে। এটিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি থেকে বাঁচতে দিল্লির প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া এর মাধ্যমে দিল্লি আমেরিকার পরবর্তী কোনো শুল্ক হুমকি এড়ানোর প্রত্যাশা করছে বলে মনে করেন তারা।
বিশ্বের জনপ্রিয় মোটরসাইকেল ব্র্যান্ড আমেরিকান হার্লে ডেভিডসন। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে হার্লের অন্যতম বড় বাজার ভারত। এ ছাড়া আমেরিকার বাণিজ্যের অন্যতম অংশীদারও দেশটি। গত বছর ভারতে এই কোম্পানির মোটরসাইকেল রপ্তানি ছিল ৩০ লাখ ডলারের। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হার্লের ওপর অন্যায্য শুল্ক আরোপ করে রাখে ভারত। তবে ট্রাম্প আবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর সেই অবস্থান থেকে ফিরে এসেছে ভারত সরকার।
গত সপ্তাহে ভারী বাইকের (যেটির ইঞ্জিন ক্ষমতা ১৬০০ সিসির বেশি) আমদানি শুল্ক ৫০ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ করেছে ভারত। এ ছাড়া ছোট বাইকগুলোর ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক ৫০ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রতিবেশী ও মিত্র দেশগুলোর পাশাপাশি বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। ভারত আশা করছে শুল্ক কমিয়ে তারা খেলায় এগিয়ে রয়েছে। তবে ট্রাম্প কি দিল্লির শুল্ক কমানোয় সন্তুষ্ট হবেন, নাকি বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা এখনো চলবে—সেটি ঠিক হয়নি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
দিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (জিটিআরআই) প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেছেন, কানাডা ও মেক্সিকো তো একরকম আমেরিকার দুই বাহু। যদি তিনি তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে সহজেই ভারতের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
গত মাসের শেষে ফোনালাপে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আরও বেশি অস্ত্র কেনার জন্য চাপ দেন। সেই সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য আরও ন্যায্য করার জন্য বলেন এবং সেটির জন্য অনবরত চাপ দিয়ে যাচ্ছেন।
এর আগে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প ভারতীয় শুল্কের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন। হার্লের ওপর ভারতের ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বারবার এটির প্রতিবাদ করে আসছিলেন ট্রাম্প। এ কারণে এটি বাণিজ্যিক অনৈতিকতার বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের প্রধান অগ্রগণ্য বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়। এর আগেও ট্রাম্প বারবার ভারতকে ‘শুল্করাজ’ (ট্যারিফ কিং) ও বাণিজ্য সম্পর্কের ‘বড় অপব্যবহারকারী’ বলে আখ্যা দেন।
ভারতের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার আমেরিকা। দেশটির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে। ২০২৩ সালে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১৯০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে আমেরিকায় ভারতের পণ্য রপ্তানি ৪০ শতাংশ বেড়ে ১২৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ভারতে আমেরিকার রপ্তানি ছিল মাত্র ৭০ বিলিয়ন ডলারের।
এদিকে বাইকের বাইরেও স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড ইনস্টলেশনের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করেছে ভারত। এ ছাড়া কৃত্রিম সুগন্ধিযুক্ত এসেন্সের (খাবার, পানীয়, ওষুধ ও প্রসাধনী পণ্যে ব্যবহার করা রাসায়নিক দ্রব্য) শুল্ক ১০০ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। আর জলজ খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত ফিশ হাইড্রোলাইজেটের শুল্ক ১৫ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া ভারত নির্দিষ্ট কিছু বর্জ্য ও স্ক্র্যাপ সামগ্রীর শুল্ক বাতিল করেছে।
সোর্স: আমার দেশ
মন্তব্য করুন: